জয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ শ্রীঅদৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌর ভক্তবৃন্দ হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে জয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ শ্রীঅদৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌর ভক্তবৃন্দ হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে জয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ শ্রীঅদৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌর ভক্তবৃন্দ হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে
সবাইকে নমস্কার

Saturday, 12 March 2016

মহাপ্রভুর শিক্ষা জীবন


শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পিতা জগন্নাথ মিশ্রকে এক জ্যোতিষী বলেছিলেন যে তাঁর বড় ছেলে সন্ন্যাস গ্রহণ করবেন। তিনি ভয় পাচ্ছিলেন হয়ত নিমাইও সন্ন্যাস গ্রহণ করবে। তাই তিনি ভাবলেন এই সমস্যা সমাধানের একটাই উপায়, তা হলো নিমাইকে শিক্ষা গ্রহণ থেকে বিরত রাখা, তাহলে সে অশিক্ষিত হয়ে ঘরে থেকে যাবে।

শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু পাঠশালায় যেতে চাইতেন, কিন্তু পিতা মাতার আপত্তির জন্য যেতে পারতেন না্, তাই তিনি অনেক দুষ্টুমি করতেন। তাঁর বয়স তখন প্রায় পাঁচ বছর।
তিনি প্রতিবেশীদের বাড়িতে গিয়ে শিশুদের কানে জল ঢেলে দিতেন আর তারা কান্না করত। তিনি গঙ্গায় স্নান করতে গিয়ে মাঝে মাঝে পুরুষদের কাপড় নিয়ে মহিলাদের কাপড়ের সাথে মিশিয়ে রাখতেন। তাঁরা স্নান করে উঠে এলে খুব লজ্জাজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো।
কখনো কখনো ব্রাহ্মণরা যখন গঙ্গা তীরে


গায়ত্রী মন্ত্র জপ করতেন, তখন শ্রীচৈতন্যদেব জল থেকে উঠে এসে গঙ্গাজল মুখে নিয়ে ব্রাহ্মণদের শরীরে ছিটিয়ে দিতেন। তারা রেগে গিয়ে বলতেন তুমি এটা কি করছ? তারা খুবই বিরক্ত হতেন। যখন কেই গঙ্গাজলে দাঁড়িয়ে মন্ত্র উচ্চারণ করতেন তখন তিনি গিয়ে তাদের পা ধরে টানতেন। এভাবে সব রকম দুষ্টুমিই তিনি করতেন। যেহতেু তিনি স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ, তাই আসলে এটি তাঁর কৃপা।  কিন্তু সবাই বাহ্যিকভাবে তাঁকে একটা দুষ্টু বালকরূপে দেখতেন।
আরেকদিন এক ব্রাহ্মণ কলাপাতায় করে ধূপ, তুলসী পত্র, পুষ্প, একটি ছোট প্রদীপ আর কিছু পূজার সামগ্রী নিয়ে গঙ্গায় নামছিলেন। তিনি তাঁর পূজার পাত্র চিহ্নিত করে রাখতে চেয়েছিলেন; কেননা সবার পাত্র কমবেশি একই রকম দেখাচ্ছিল। তাই তিনি গঙ্গা থেকে একটু কাদামাটি নিয়ে গোল লাড্ডুর মতো  বানিয়ে তাঁর থালায় রাখলেন। তখন শ্রীচৈতন্যদেব তাঁকে বোকা বাননোর জন্য এরকম একটি মাটির লাড্ডু বানিয়ে সবার থালায় একটি করে রেখে দিলেন। এভাবে তিনি অনেক কান্ড ঘটাতে লাগলনে, যেন তাঁর পিতামাতা তাঁকে পাঠশালায় পাঠান।
তখনকার দিনে রান্নার জন্য পোড়ামাটির পাত্র ব্যবহার করা হতো। আপনারা হয়ত ভাবছেন যে, এটি খুব পুরনো্ গ্রামীণ রীতি, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটিই ভালো ব্যবস্থা। এসব বাসন পরিষ্কার করতে হয় না্। তা ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া হতো এবং মাটির সাথে মিশে যেত। তখন কোনো প্লাস্টিক বা এ্যলুমিনিয়াম ছিল না, ছিল খুব সুন্দর সুন্দর মাটির পাত্র, যা রান্নার জন্য খুবই ভালো। ঘরের পিছনে একটি নির্দিষ্ট জায়গা ছিল, যেখানে রান্নার পর মাটির পাত্রগুলো ফেলে দেওয়া হতো। তারপর সেই স্থানটি ময়লা আবর্জনা দিয়ে পূর্ণ করা হতো এবং মাটির পাত্রগুলো আবার মাটি হয়ে যেত।
একসময় শ্রীচৈতন্যদেব সেই ফেলে দেওয়া মাটির পাত্রের স্তুপের উপর দাঁড়িয়ে ছিলেন। তা দেখে শচীমাতা বললেন, তুমি কি করছ? এটা ময়লা ফেলার জায়গা, অশুচি''।
তখন ভগবান উত্তরে তাঁর মাকে বললেন আমি শুচি-অশুচির কি জানি? আমি পাঠশালায় যেতে পারি না, কিছু শিখতে পারি না। আমি একদম মূর্খ, কারণ তোমরা আমাকে পাঠশালায় পাঠাওনি। আমি কি জানি? আমি যা জানি তা হচ্ছে এই স্থানটি অন্য সব জায়গার মতোই ভালো।
এভাবে তিনি সবসমময় তাঁর মা-বাবাকে বিরক্ত করতেন তাঁকে পাঠশালায় পাঠানোর জন্য। তাই শেষ পর্যন্ত শচীমাতা ভাবলেন, আমরা কিভাবে নিমাইকে পাঠশালায় যেতে বারণ করব? ও তো সত্যিই যেতে চায়। ওর ভাগ্যে যা আছে তাই হবে। অবশেষে তাঁরা নিমাইকে পাঠশালায় পাঠালেন.. (চলবে)

No comments:

Post a Comment