ব্রহ্মা ভগবানের কৃপা লাভের জন্য জপ করতে লাগলেন, “গৌরাঙ্গ, গৌরাঙ্গ, গৌরাঙ্গ গৌরাঙ্গ, গৌরাঙ্গ, গৌরাঙ্গ গৌরাঙ্গ, গৌরাঙ্গ, গৌরাঙ্গ গৌরাঙ্গ, গৌরাঙ্গ, গৌরাঙ্গ”। তার বারংবার প্রার্থনাং শ্রীচৈতন্যদেব আবির্ভূত হলেন।
ব্রহ্মা তড়িঘড়ি কওে উঠে প্রণতি নিবেদন করলেন। তিনি কিছু বলতে চাচ্ছিলেন, কিন্তু অপাকৃত আনন্দে তিনি আত্মহারা হলেন। কৃষ্ণ ব্রহ্মাকে বিনয়ী করার মাধ্যমে আনন্দ দান করেছিলেন- এখন ব্রহ্মা শ্রীচৈতন্যদেবের দর্শন লাভ করে সত্যিই অসীম আনন্দ লাভ করলেন।
শ্রীচৈতন্যদেব জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি চাও? আমায় ডাকছ কেন?” তারপর ব্রহ্মা বললেন,“ হে প্রাণনাত, আমি
আপনার কৃপা চাই। আমি বুঝতে পারছি যে, আপনি আগামী কলিযুগে আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে আমার
জীবনের অর্ধেক সময় অতিক্রান্ত হয়েছে এবং আমি এখনো অত্যন্ত অধঃপতিত। আমি একটি অপরাধ করেছি। আমি আপনার গোবৎস ও গোবালকদের অপহরণ করেছি। কখন আমি সম্পূর্ণ বিনয়ী ও শুদ্ধ হব, সমস্ত দোষ থেকে মুক্ত হব? দয়া করে আমাকে আশীর্বাদ করুন আমি যেন অপরাধপূর্ণ মানসিকতা মুক্ত হতে পারি এবং বিশুদ্ধ কৃষ্ণপ্রেম লাভ করতে পারি এবং যখন আপনি পৃৃথিবীতে আবির্ভূত হবেন, তখন আপনার লীলায় অংশ নিতে পারি।
নাটক দেখা আনন্দের কিন্তু নাটকে অংশগ্রহণ করা আরো বেশি আনন্দের। কৃষ্ণলীলায় দেবতারা উপর থেকে দর্শন করে উপভোগ করেছেন, কিন্তু লীলায় অংশগ্রহণ করার আনন্দের ঘাটতি ছিল। তাই ব্রহ্মা লীলায় অংশগ্রহণ করতে চেয়েছিলেন। শ্রীচৈতন্যদেব তাঁকে বললেন, “তথাস্তু। তুমি যা চাও তাই হবে।”
তারপর কীভাবে ব্রহ্মা একটি নীচকুলে আবির্ভূত হবেন তা বললেন। যদিও ব্রহ্মা ছিলেন একজন মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তি, তিনি শুধু নিজেকে বিনয়ের শিক্ষা দেবার জন্যই নীচকুলে আবির্ভূত হলেন। তারপর শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাঁকে বললেন যে, তিনি যেন প্রতিদিন তিন লক্ষ নাম জপ করেন। “দিব্যনাম কীর্তনের মাধ্যমে তুমি তোমার সমস্ত অপরাধ থেকে মুক্ত হবে। তুমি আমার একজন পার্ষদে পরিণত হবে। তোমার নাম হবে হরিদাস।”
তারপর মহাপ্রভু অন্তর্হিত হলেন এবং ব্রহ্মা সত্যলোকে ফিরে গিয়ে আগমনের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেন। খুব অল্প সময়ের জন্য তাঁকে তাঁর দায়িত্বগুলো পরিচালনার ব্যবস্থা করতে হলো- কারণ মানুষের জীবনকাল ব্রহ্মলোকের সময়ের সাপেক্ষে খুব বেশি নয়।
যখন কৃষ্ণ অবতরণ করেন, তাঁর কাজ ছিল গোচারণ, গোপবালকদের সাথে বনভোজন এবং এরকম আরো অনেক লীলা আস্বাদন করা। শ্রীচৈতন্যদেবেন কার্য সংকীর্তন যজ্ঞের প্রতিষ্ঠা করা। যজন্তি হি সুমেধসঃ (শ্রীমদ্ভাগবত ১১.০৫.৩২)। যারা অত্যন্ত বুদ্ধিমান, তারা এধরনের লীলায় অংশগ্রহণ করেছেন এবং এই লীলাসমূহ এখনো চলছে।
শ্রীচৈতন্যদেব ভবিষ্যৎ বাণী করেন যে, কৃষ্ণভাবনা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে যাবে।
পৃথিবীতে আছে যত নগরাদি গ্রাম।
সর্বত্র প্রচার হইবে মোর নাম ॥
“পৃথিবীর প্রতিটি নগর ও গ্রামে আমার নামের মহিমা কীর্তিত হবে।”
(শ্রীচৈতন্যভাগবত, অন্ত্য ৪.১২৬)
কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের সকল ভক্ত শ্রীচৈতন্যদেবকে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী সার্থক করার জন্য সাহায্য করছেন, তার মানে হচ্ছে তাঁরা শ্রীচৈতন্যদেবের লীলায় অংশ নিচ্ছেন। যদি আপনার সবকিছু শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা হিসেবে দেখেন, তাহলে সবকিছুই আনন্দময় হয়ে উঠবে। শ্রীচৈতন্যদেবের আরেক নাম বিম্বম্ভর। তিনি সমগ্র বিশ্ব ব্রহ্মা-ের বার বহন করে তা রক্ষা করছেন। তাই ভয়ের কোনো কারণ নেই, কিন্তু শ্রীচৈতন্যদেব ও তাঁর প্রতিনিধিদের ওপর আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে।
[‘গৌরাঙ্গ - শ্রীল জয় পতাকা স্বামী মহারাজ]
No comments:
Post a Comment